/ / BENGALI LOVE STORY - ' আমার লজ্জাবতী '

BENGALI LOVE STORY - ' আমার লজ্জাবতী '






--"এইটা পরলে অনেক কিউট দেখা যাবে আপনাকে!!"

আমার কালো পাঞ্জাবিটা সামনে ধরে বললো রুমি।

--আচ্ছা দাও ।

আমি পাঞ্জাবিটা পরে আয়নার সামনে দাঁড়ালাম। খারাপ লাগছেনা। আমিও কিউট দেখতে আগে জানতাম ই না। রুমি সামনে এসে কলার ঠিক করে দিতে লাগলো। রুমি দেখি আমার চাইতেও অনেক কিউট। এত কাছে থেকে প্রথমবার দেখতেছি ওকে। আমার চাইতে একটু খাটো। খুব সুন্দর। হ্যাঁ মুখে একটা মায়া জমে আছে।

কলারটা ঠিক করে পাঞ্জাবির হাতাটা গুছিয়ে দিলো। তারপর হাত দিয়ে চুলগুলো ঠিক করে দিলো। আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি শুধু। তারপর সাদা টুপিটা মাথায় পরিয়ে দিলো। হাতের নখগুলো দেখে আমার মুখের দিকে তাকালো। আসলে অনেক বড় হয়েছে নখগুলো।

--নখগুলো কেটে রাখতে পারেননা। এত এলোমেলো কেন আপনি।

আমি কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছিনা।

--সময় পাইনাই কাটতে। BENGALI LOVE STORY

রুমি ড্রয়ার থেকে নেইলকাটার বের করে নখগুলো কাটতে শুরু করলো। তাও আবার ঘরের বাহিরে সিঁড়িতে টেনে নিয়ে গিয়ে। এদিকে বাবা দেখছে আর হাসছে। আমি তো লজ্জায় শেষ। বাবাকে রুমি অনেক আগেই তৈরি করে দিয়ে এসেছে। বাবা বাহিরে বসে আছে আমার অপেক্ষায়। আসলে মা মারা যাবার ছয় মাস হয়েছে। তাই বাবাকে হাসতে দেখলে কেন জানি খুব ভালো লাগে।

নখগুলো কেটে আবার টেনে ভেতরে নিয়ে গেল রুমি। একটু আতর লাগিয়ে দিয়ে দিলো।

আমি বের হয়ে যেতে লাগলাম । পেছন থেকে আবার ডাক দিলো।।

--এইযে আমার পাওনা কে দিবে।

--কিসের পাওনা।

--এত সুন্দর করে সাজিয়ে দিলাম জুম্মার জন্য। আমায় কিছুই দিবেননা ??

--কি লাগবে বলো।

--আপনি দেন দেখি কি দিবেন।

আমি পার্স থেকে পাঁচশ টাকা একটা বের করলাম। ও দেখে মুচকি হাসতে লাগলো। টাকাটা নিয়ে আমার বুকের পকেটে রেখে দিলো।

--আমি টাকা দিয়ে কি করবো?? আপনার সব টাকা তো আমারই তাইনা।

--হম্ম।

--আচ্ছা আমি বলে দিচ্ছি। আপনি জানেননা যে স্বামী স্ত্রীর কপালে চুমু দিলে ভালোবাসা বাড়ে। ROMANTIC LOVE STORY

--আচ্ছা এই বেপার। বউটা এত রোমান্টিক আমি জানতাম ই না।

রুমি এইবার লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো। আমি রুমির দুই গালে হাত রেখে কাছে নিয়ে আসলাম কপালে একটু লম্বা ভালোবাসার পরশ আঁকিয়ে দিলাম। ও লজ্জায় বুকে মাথা রাখলো। ওর চোখদুটো বন্ধ কিন্তু মুখের মুসকি হাসিটা আমি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করতে পারছি। এইভাবে দুইমিনিত থাকার পর ও মুখটা উঠিয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো।

--এখন থেকে কোথায় গেলে বা আসলে এইভাবে চুমু দিয়ে দিবেন তো??

--আচ্ছা দিব।

--ভুলে যাবেন নাতো কখনো।

--ভুলে গেলে তুমি মনে করিয়ে দেবে।

--হম্ম।।যান এখন আব্বু অপেক্ষা করছে।

--আচ্ছা ।

--আর তাড়াতাড়ি আসবেন । কোথাও আড্ডা দিবেননা। আপনার পছন্দের বিরিয়ানি রান্না করবো।

-- ওকে মহারানী।

আমি আর বাবা যাচ্ছি মসজিদের দিকে। আর ভাবছি মায়ের পছন্দের কথা। বৌটাও একদম মায়ের মতো।

আমি রাফি। আমার আর রুমির বিয়ে হয়েছে চারদিন আগে। আসলে আমারদের বিয়ের পর আজ প্রথম শুক্রবার। মেয়েটা আমাদের পাশের গ্রামেরই। বিয়েটা ঠিক হয়েছিল প্রায় সাত আট মাস আগেই। আম্মু পছন্দ করে দিয়ে গেছে। আম্মু হঠাৎ মারা যায়। ওর পরীক্ষা ছিল তাই ছয়মাস আমি পিছিয়ে দিয়েছিলাম। আর আমার ও চাকরি ছিলোনা তখন। তখন ওর সাথে কথা হয়েছিল। ও বলেছিল আপনি তো আর সারাজীবন বেকার থাকবেনা। যেমন রাখবেন আমি তাতেই খুশী থাকবো। কিন্তু আমি তখন কলেজে লাস্ট প্রজেক্ট এ বেস্ত হয়ে গেলাম। তাই বিয়েটা আর করা হলোনা তখন।

ছয়দিন আগে বাড়ি ফিরেছিলাম। ওর পরীক্ষাও শেষ হয়েছিল। ওর বাবা এসেছিল সেদিন। আমি গেছিলাম কথা বলতে ওর সাথে। ও বলেছিল আপনার আম্মু আপনার বিষয়ে অনেক কিছু বলেছিল। আপনার দায়িত্বগুলো আমায় দিয়ে দিবে বলে বলেছিল। আপনি কি পূরণ করার সুযোগ করে দিবেন। আমায় বিয়ে করবেন ??

আমি কেন যেন সেদিন মানা করতে পারিনাই। ততদিনে আমার চাকরি হয়ে গেছিল কিন্তু ও জানেনই আর আমিও জানায়নি। আসলে মেয়েটা আমার দুইবছর বড়ো। ওর বাবা তেমন কিছু করেনা। গরিব ঘরের মেয়ে। অনেক গম্ভীর মেয়েটা।

তার দুদিন পর আমাদের বিয়ে হয় ও আমায় আপনি বলেই ডাকে। আর আমি তুমি করে। ও একটু খাটো। আজকে চারদিন হয় আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমিও গ্রামের বাড়িতে আছি ছুটিতে। দুইদিন পর যেতে হবে আবার। এইবার ভাবছি একটা ফ্লাট নিয়ে বাবা আর রুমি দুজনকেই নিয়ে যাবো।

নামাজ থেকে দোকানে গেলাম। সব বন্ধ। তাই বাসায় চলে আসলাম। ঘরে ঢুকে দেখি রুমি রান্নাঘরে। বাবা এখনো আসেনি। রুমি একটা কালো থ্রিপিস পড়েছে। বেশ সুন্দর লাগছে। মাথায় লাল ওড়না একটা বাধা। আমায় বললো রুমে যেতে। CUTE LOVE STORY

কিছুক্ষন পর রুমে আসলো। হাতে বিরিয়ানির প্লেট। আমি লোভ সামলাতে না পেরে শুরু করে দিলাম। বউ আমার তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে।

--কি তুমি খাওনি ??

--না।

--তাহলে নিয়ে আস প্লেট।

--আপনি খাইয়ে দেবেন না ??

--নাহ।

ও  না টাএক্সপেক্ট করেনাই। আমার রোমান্টিকতা তো ও জানেনা। দেখিয়ে দেব আস্তে আস্তে।

মুখ গোমড়া করে বসে রইলো। আমি এক টানে কোলে বসিয়ে নিলাম। খাবার তুলে মুখের সামনে ধরলাম।

--রাগলে আরো কিউট লাগে তোমাকে। এইবার খাও।

আমার মুখে হাসি দেখে আরো রেগে গেল। মুখটা ঘুরিয়ে নিলো। আমিও কি কম নাকি।হাতের খাবার  টা নিজেই খেয়ে ফেললাম। এবার ও রেগে লাল হয়ে গেল। কোল থেকে উঠে যেতে লাগলো। কিন্তু আমিও কম না। হাত টা ধরে ফেললাম। কোলে বসিয়ে গালে হাত দিলাম।

--আসলে বিরিয়ানিটা এত ভালো হয়েছে যে তোমাকেও দিতে ইচ্ছে করছেনা।

এবার বউয়ের মুখে কিছুটা হাঁসি দেখা গেল। এবার মুখের সামনে ধরলে খেয়ে নিলো সুন্দর করে। পরেরবার দিতে গেলে হাতে একটা কামড় দিয়ে দিলো। পাল্টা আক্রমণ!! কিছু করার আগে হাসতে হাসতে দৌড়ে পালালো। আমিও হাসতে লাগলাম ওর খুশী দেখে।

খাবার পর লম্বা ঘুম দেয়া হলো। বউ আমার কাজে বেস্ত। পুরো ঘর গুছিয়ে ফেলছে ততক্ষনে। বিকেলে একটু আড্ডা দিতে গিয়ে অনেক রাত হলো। আব্বুর ফোন আসছে ততক্ষনে। এত রাতের বাহিরে কি। বউ তোর চিন্তা করছে। আসলে রুমির কাছে ফোন নেই। তাই বাবাকে বলেছে হয়তো। একটা ফোন কিনে দিতে হবে ওকে।

বাসায় আসার পর দেখি বউ আমার অভিমানী। দরজা খটখটাচ্ছি কিন্তু খুলছেনা। একটু পর খুলে দিলো। অভিমান করে ঘুরে দাঁড়িয়ে রইলো।। আমি কি কম নাকি। একেবারে কোলে তুলে নিয়েছি। বউ আমার অভিমান থেকে হেসে ফেললো।

--পাগল। অমন করে কেউ কোলে তুলে নাকি। আমি তো ভয় পেয়ে গেছি।

--আমি তুলি। পাগলী আমার ।

কপালে একটা চুমু দিয়ে দিলাম। বউয়ের অভিমান সব পানি।

--হয়েছে এখন নামিয়ে দেন।

--না। HEART TOUCHING LOVE STORY

--আব্বুকে খেতে দিব। নামিয়ে দেন।

--দাঁড়াও।

কোলে করে ছোট্ট আয়নাটার সামনে নিয়ে গেলাম। অনেকটা কিউট লাগছে আমাদের দুজনকে। বউ আমার লজ্জায় লাল হয়ে গেছে এইবার। কোলে থেকে নামাতেই দৌড়ে পালিয়েছে আবারো ।

রাত্রে শুয়েছি। বউ আমার খোচানো শুরু করছে।

--কি হলো।

--একটু চাঁদ দেখাবেন ? আজকে অনেক বড়ো চাঁদ উঠেছে।

--একটু কেন পুরোটাই দেখাবো ।

আবার কোলে তুলে নিলাম।।আসলে ছাদ নেই বাসার। তাই সিঁড়িতে বসিয়ে দিলাম। চাঁদটা দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট। বউ আমার কাঁধে মাথা রাখলো। অনেক স্বপ্নর কথা বলতে লাগলো । আধঘন্টার মধ্যে আর কথা শুনা যাচ্ছে না। তাকিয়ে দেখি ঘুমিয়ে গেছে পাগলিটা। কোলে করে নিয়ে শুইয়ে দিলাম।। প্রথম শুক্রবার বিয়ের পর। অনেকটা স্পেশাল কাটলো।

আজকে চারদিন হয়ে গেছে আমি শহরে। একটা ফ্ল্যাট নিয়েছি ভালো করে ঠিক করা হয়নি। প্রতিদিন রাতে কথা হয় বাবার সাথে আর রুমির সাথে। বউটার অনেক অভিমান বাড়ছে। বুঝতে পারি। ভাবছি নিয়ে আসবো পরের সপ্তাহে।

পরের দিন শুক্রবার অফিস নেই তাই ঘুমোচ্ছি। দশটার দিকে বেল বাজছে বার বার। বিরক্তিকর। দরজা আমি অবাক। বউ আমার ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিছু একটা রিএকশন দেয়ার আগেই বুকে এসে পড়েছে বউটা। সাথে কিল ঘুষি শুরু হয়ে গেছে বুকে। চুলটা ঠিক করে দিয়ে কপালে একটা ভালোবাসার পরশ দিয়ে দিলাম। বউটা শান্ত হয়ে গেল। রাগ গুলো সব অভিমান এ পরিবর্তন হয়ে গেল।

--আপনি কেমন একটা পাষান মানুষ।বউকে একা একা রেখে আসছেন গ্রামে। আপনার কি বউয়ের কথা মনে পড়েনা কখনো।

--নাহ।(একটু রাগিয়ে দেওয়া যাক ! )

--কিহ ! আচ্ছা মনে করা লাগবেনা। আমি চলে যাচ্ছি ।

--আরে কই যাও। BHALOBASAR GOLPO

বউটাকে কোলে তুলে নিলাম। বললাম অনেক মিস করেছি তোমায়। পাক্কা। এইবার বউটা কেঁদেই দিলো। পাগলী একটা। কোল থেকে নামিয়ে চোখ দুটো মুছে দিলাম।

--আপনার দুস্টুমিগুলো খুব মিস করছিলাম।

--আর মিস করা লাগবেনা ম্যাডাম। এবার এখানেই রেখে দেব পাগলিটাকে।

বউটাকে কোলে নিতে যাবো তখন দেখি বাবা পেছনে দাঁড়িয়ে। আমাদের কান্ড দেখে হাঁসছে । লজ্জা….অনেক লজ্জা….বউটা লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।।
BENGALI LOVE STORY - ' আমার লজ্জাবতী ' BENGALI LOVE STORY -  ' আমার লজ্জাবতী ' Reviewed by Bengali love status on April 23, 2020 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.