/ / New Bengali love story- ফোনের ওপারে

New Bengali love story- ফোনের ওপারে



আরো গোঙাতে থাকলো । মেয়েটার শরীরের শেষ রস টুকু যেন নিংড়ে নেওয়ায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সে ।মেয়েটার হাত দুটো চেপে ধরে রেখে আরো জোরে...আরো আরো জোরে সে তার শরীরের খিদে মিটাতে থাকলো । নগ্ন মেয়েটি শুয়ে আছে বিছানায় । শ্যামবর্না সে...খোলা চুল...কপালে ছোট্ট একটা লাল টিপ...আর গলায় একটা পাতলা সোনার হার...তার মুখটি অন্ধকারে ঢাকা...শুধু কপালের টিপটা দেখা যাচ্ছে।অর্পণ এতকিছু করা সত্ত্বেও সে শান্ত স্তব্ধ হয়ে রয়েছে । অর্পণ মোবাইলের টর্চ লাইট এ তার মুখ দেখবে বলে হাত বাড়িতে টেবিল থেকে মোবাইলের নিতে যেতেই দু তিনটি কাঁচের গ্লাস মাটিতে 
পড়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে যাওয়ার আওয়াজ এলো ।bangala premer golpo চমকে উঠে বসলো অর্পণ। বিছানার উপর হাত বাড়িয়ে রুমের লাইট টা জ্বালিয়ে দেখলো অদ্ভুত ব্যাপার । তার বিছানার পাশের টেবিলে আগের রাতের মদের গ্লাস,ফুরিয়ে যাওয়া মদের বোতল,সিগারেটের ছাই ফেলার কাঁচের পাত্র সব ই যথা স্থানে রয়েছে । রুমের অন্যান্য আসবাব পত্রও সব ঠিকঠাক...তাহলে আওয়াজটা এলো কোথা থেকে! মনে মনে ভাবতে ভাবতে সে টের পেল ঘেমে স্নান করে গেছে সে । এসির দিকে তাকিয়ে দেখল এসি চলছে পনেরো তে। অদ্ভুত ! পনেরোতে এসি চলছে অথচ সে এত ঘেমে গেছে ! হয়তো কোনো খারাপ স্বপ্ন দেখছিল । স্বপ্নের কথা মনে করতেই তার মনে এলো অন্ধকারের ওই মেয়েটার কথা । যার সঙ্গে সে এক উন্মাদনার খেলায় মগ্ন হয়েছিল নিজের শরীরের আস মেটাতে । তাড়াতাড়ি ঘড়ির দিকে তাকালো সে। আশ্চর্য ! রাত ২.৩০ !!! হয়তো ভুল দেখছে এই ভেবে একবার চোখ মুছে সে আবার দেখলো । নাহ ! ভুল সে দেখছে না ! কিন্তু কিকরে সম্ভব ! ব্যাপার হচ্ছে যে...অর্পণ বিগত কয়েক মাস ধরে যখনই রুমে এক ঘুমোচ্ছে রাতে...তখনই এই এক স্বপ্ন একই সময় দেখছে সে । প্রত্যেকবার সেই এক নগ্ন শ্যমবর্না শরীর...শরীরের উত্তেজনায় মত্ত...মুখ অন্ধকারে ছাওয়া... হাত বাড়িয়ে আলো এনে তার মুখ দেখতে চাওয়ার চেষ্টা...আর তারপরই সেই কাঁচের জিনিস ভাঙার তীব্র আওয়াজে ঘুম ভেঙে যাওয়া। কিন্তু আজকে একটু ওন্য ব্যাপার ঘটলো । 
Romantic bengali love story
ঘড়ির দিক থেকে চোখ সরিয়ে বিছানায় চুপ করে একটু শান্ত হয়ে বসতেই তার ফোনে রিং বেজে উঠলো ।
- " এত রাতে কে ফোন করলো "ভাবতে ভাবতে ফোনটা ধরলো সে । 
-" হ্যালো? হ্যালো কে? "
ওপাশ থেকে প্রথমে স্পষ্ট কারোর আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলনা সে...একটুক্ষন ধরে রাখতে সে হালকা শুনতে পেল কারা যেন চিৎকার করে কাঁদছে...খুব জোরে জোরে যেন চিৎকার করছে...আর সেই আওয়াজ অনেক দূর থেকে তার কানে আসার মতো সে খুব আস্তে আস্তে শুনতে পাচ্ছে সেই চিৎকার আর কান্না...সেই চিৎকার আর কান্না আস্তে হলেও তীক্ষ্ণ...কারা যেন তাদের সর্বস্ব হারিয়ে সেই কান্না কাঁদছে । অর্পণ যেন হারিয়ে যেতে থাকলো ক্রমে সেই আওয়াজে । হটাৎ করে ফোনটা কেটে গেল । চেতনা ফিরলো অর্পণের। কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই ফোনটা কেটে গেল ভেবে খানিক অস্বস্তিতে পড়লো সে।ফোনটা খাটে ফেলে দিয়ে একটা সিগারেট মুখে নিয়ে ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো । আশপাশ টা একবার চোখ বুলিয়ে নিলো সে।কেউ কোত্থাও নেই।চারিদিক শান্ত স্তব্ধ। সে বাদে পুরো পৃথিবী যেন চির নিদ্রায় মগ্ন হয়েছে । সিগারেটটা আঙুলের ফাঁকে নিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে সে ভাবতে থাকলো ফোনটা তাকে এত রাতে কে করতে পারে।আর ঐভাবে কাঁদছিলোই বা কারা ! তাহলে কি নার্সিং হোমে কিছু হলো ! ইত্যাদি ইত্যাদি ভাবতে থাকে সে নয়নের মনে।
অর্পণ ডাক্তার । সাইকোলজিস্ট । খুব নাম ডাক তার এই শহরে। বিভিন্ন সেমিনারে যায় পুরস্কার নিতে...আবার কখনও যায় সম্মানীয় অতিথি হয়ে পুরস্কার দিতে। সব জায়গায়ই বক্তৃতা দিতে গিয়ে সে একটাই কথা বলে..." মানুষের মন বুঝে তার সাথে খেলা করার মজাটাই আলাদা । তাই আজ আমি অন্যকিছুর ডাক্তার না হয়ে মানুষের মনের ডাক্তার হয়ে উঠেছি ! "
misti premer golpo in bangla
সিগেরেট টা শেষ করে বিছানা থেকে ফোনটা তুলে আরাম চেয়ারে এসে বসে সে । ফোনটা খুলে কল লিস্টের সবার শেষে আসা ফোনের নম্বরটা তার খুব চেনা লাগে।খুব চেনা । মনে হচ্ছে এই নম্বর থেকে যেন রোজ তার কাছে ফোন আসতো... সেও ফোন করতো...কিন্তু কার এই নাম্বার ! তৃপর্ণার! নাকি সুপ্রীতির ! না অরুনিমার ! নাহ ধুর ওদের নম্বর তো আমার সেভ করা আছে । আর ওরা এখন বিবাহিত।এত রাতে আমাকে ফোন করবেনা । তাহলে কার নম্বর এটা ! "
একটুক্ষন কগুপি করে নম্বরটার দিকে তাকিয়ে থাকে অর্পণ। হটাৎ করে এক লাফে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে সে .....
- "এটা কি করে সম্ভব ! এটা তো.....এটা তো....."
বলতে বলতেই আবার ফোনে রিং বেজে উঠলো...সেই এক নম্বর থেকে...হাত থেকে ফোনটা খাটে ছুড়ে ফেলে দিলো অর্পণ...কিন্তু বারবার ফোন আসতে থাকে ওই নম্বর থেকেই...অর্পণ ভেবে পায়না কি করবে । শেষবার রিংটা কেটে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে ফোনটা ধরে সে। একটু চুপ থেকে বলে ওঠে.....
- " হ্যালো "
- " কিরে...চিনতে পারিস আমার?রোজ তো এই এক স্বপ্ন দেখিস...তাও বুঝিসনা যার সাথে শরীরের খেলায় মত্ত হোস স্বপ্নে সেই  শরীর টা আসলে কার ! থাক...আর বুঝতে হবেনা তোকে । যা এবার ঘুমিয়ে পড়... কাল সন্ধ্যে নামলে পদ্ম পুকুরের ধারের ওই বাঁধানো বেদি টায় বসে অপেক্ষা করিস...অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গেল তোকে কাছ থেকে দেখিনি…......" শেষ কথাগুলো হালকা হতে হতে মিলিয়ে গেল।
 অর্পণ হ্যালো হ্যালো করতে করতেই ফোনটা কেটে গেলো । কেউ যেন এক নাগাড়ে কথা গুলো বলে চলে গেলো । একটি মেয়ে । গলাটা তার খুব চেনা...খুব চেনা । কিন্তু সে যাকে ভাবছে সে তো………..Cute premer golpo in bangla 
নম্বরটায় ঘুরিয়ে কল ব্যাক করলো সে কিন্তু পেলনা।  
ফোন রেখে সে স্মৃতিগুলো এক এক করে মনে করতে লাগলো ।এই নম্বরটা ছিল কুহেলির। অর্পণের প্রথম প্রেমিকা। গলাটা শেষবারের মত শুনেছিল আজ থেকে পাঁচ বছর আগে। কিন্তু তার গলা আজ শুনতে পেল কিকরে ! কুহেলি মারা গিয়েছে পাঁচ বছর আগেই। একদিন হঠাৎ করে অন্য একটি মেয়ের সাথে অর্পণ কে দেখে নিয়েছিল সে আর সেখান থেকেই শুরু হয় জটিলতা। আর তারপর বিচ্ছেদ। এই বিচ্ছেদ কুহেলি মেনে নিতে পারেনি কিছুতেই। মেনে নিতে পারেনি অর্পণের কাছে ঠকে যাওয়া টা। এইসব থেকে মুক্তির পথ হিসেবে সে মৃত্যুকেই বেছে নিয়েছিল। রাস্তায় চলন্ত বাসের মুখে পড়ে মৃত্যু হয় তার। খবরটা অর্পণ পেয়েছিল তার এক বন্ধু মারফত। ছুটে গিয়েছিল কূহেলির বাড়িতে। চোখে দেখা যাচ্ছিলনা এমন ই ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল কুহেলীর শরীর। এক ঝলক ওই দৃশ্য দেখে চলে এসেছিল অর্পণ। তারপর আস্তে আস্তে সময়ের ছন্দে আর নতুন বন্ধু বান্ধবীদের পেয়ে স্বার্থপরের মত ভুলেই গিয়েছিল সে কুহেলি কে। তবে আজকের মত এই স্বপ্ন সে অনেকবার দেখেছে। কিন্তু কখনো ভেবেও দেখেনি ওটা কুহেলি। আজ ফোনে ওর গলা শুনে সবকিছু মনে পড়তে থাকল অর্পণের...আর এই করতে করতে কখন সে ঘুমিয়ে পড়লো জানেনা।

পরেরদিন সকালে যখন ঘুম ভাঙলো ঘড়িতে তখন ৯টা । উঠে আর আগের রাতের কথা মনে পড়লো না ওর। দুপুর ১টা । কলিং বেল বেজে উঠলো । টিফিন বক্সে করে খাবার দিতে এসেছে হোম ডেলিভারির ছেলেটি। অর্পণ বক্স টি নিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল। টেবিলে নিয়ে গিয়ে যখন প্লেটে খাবারগুলো নেওয়ার জন্য যখন বক্স টি খুললো ঘটলো এক অলৌকিক কণ্ড। বক্সের ঢাকনার ভেতর দিকে লাল কালিতে লেখা…
' আসিস কিন্তু আজ '
লেখাটা দেখে ভয়ে খাবারগুলো হাত থেকে পড়ে গেলো ওর। মনে পড়ে গেলো আগের রাতের সব কিছু।
"এবার তো আর আমার মনের ভুল ভেবে চুপ করে বসে থাকাটা ঠিক হবেনা । আজ আমি যাবই। কে আমার সাথে এমন ছলনা করছে আমাকে দেখতেই হবে আজ"
দুপুরে আর খাওয়া হলনা ওর । মনে মনে শুধুই অস্থির হতে থাকলো আর ক্ষণে ক্ষণে ঘড়ি দেখতে লাগলো কখন সন্ধ্যে হবে। বিকেল ৬.০৫ । বাইরে তখন সন্ধ্যে নামবো নামবো করছে। 
"নাহ...এবার বেরিয়ে পড়ি। বলে একটা লাল ফুল হাতা টি শার্ট আর নিচে নীল জিন্সের প্যান্ট পরে বেরিয়ে পড়লো পদ্মপুকুর এর উদ্দেশ্যে। যখন পৌঁছলো তখন ঘড়িতে বাজে ৬.২৫। সবেমাত্র সন্ধ্যে নেমেছে। চারিদিকে কেউ কোত্থাও নেই। অর্পণ এদিক ওদিক একটু তাকিয়ে সেই পুরোনো বেদিতে গিয়ে বসে ফোনে কি যেন দেখতে থাকলো। হটাৎ পুকুরের জলে ছোট একটা ঢিল পড়ার আওয়াজে চমকে উঠলো ও। 
" কি হলো ! কেউ তো কত্থাও নেই আশপাশে ! তাহলে পুকুরের ঢিল ফেললো কে ! "
অর্পণ এমনিতে সাহসী। অলৌকিক কোনকিছুতে বিশ্বাসী নয়। ডাক্তার মানুষ। কিন্তু আজ কেমন যেন ওর ও গা ছমছম করছে। ওই ঢিল কে ফেললো জানতে এপাশ ওপাশ তাকাতে তাকাতে হটাৎ দেখলো কেউ যেন তার দিকে এগিয়ে আসছে। একটা মেয়ে। চুল খোলা...শ্যামবর্ণ...ছোটোখাটো চেহারা । অর্পণ থেকে সে যখন একদম তিন হাত দূরে,তখন সে অবাক হতে চেয়ে রইলো। 
" কিরে ভয় পেয়েছিস আমায় দেখে?তুই তো খুব সাহসী। তাহলে আজ কেন আমায় দেখে ভয় পাচ্ছিস? "
" না….না…..কিন্তু…..এটা কীকরে সম্ভব !!! "
" তোদের দুনিয়ায় সব সম্ভব...সব...ঠিক যেমন পাঁচ বছর আগে আমায় ছেড়ে তুই অন্য কারোর দিকে হাত বাড়িয়ে ছিলি । আমি কি ভেবেছিলাম কখনো ওটা সম্ভব বলে ! কিন্তু সম্ভব তো হয়েছিলো । আর করেছিলি তুইই । তাহলে আজকে আমাকে এখানে তোর দেখতে পাওটাও সম্ভব ...বুঝলি অপু ! "
অপু নাম টা শুনে অর্পণের সারা শরীরে একটা হিম বয়ে গেল। নামটা ও পাঁচ বছর পর শুনলো সেই মানুষের মুখে যে তাকে ওই নামেই ডাকতো আদর করে ।
" ভুল করেছিলাম সেদিন । আমাকে তুই ক্ষমা করিস "
" থাক আজ এসব কথা। তোকে অনেকদিন কাছ থেকে দেখিনি । আজ পাঁচ বছর তিন মাস বারো দিন। এই পাঁচ বছর আমি প্রতিদিন ভেবেছি তোর সাথে দেখা করবো । কিন্তু পরক্ষণেই দেখেছি তুই দিব্যি আছিস আমায় ছেড়ে । মেডিক্যাল কলেজের নতুন বন্ধুদের পেয়ে ভালই মজে আছিস। ভুলেই গেছিস আমায় । তাই এই কয়েকমাস আমি তোর স্বপ্নে আসি । "
" স্বপ্নের ওই মেয়েটাকে কেন আমার এত চেনা লাগতো আজ বুঝলাম কিন্তুআমি কখনো তোর মুখ দেখতে পাইনি "
" হমম...আমি দেখতে দিইনি তোকে আমার এই মুখ...আমি তো খারাপ ছিলাম। তাইতো তুই ……। ছাড়...শেষ বারের মত আমার একটা কথা রাখবো অপু? "
"রাখবো... বল "
" একবার আমায় ডাকবি তোর দেওয়া পুরনো সেই নামে?"
এতক্ষণে গলা শুকিয়ে গেছে অর্পণের। ভয়ে না কষ্টে তা বুঝতে পারছেনা সে নিজেই...হালকা শান্ত সুরে বলল…..
"...সবাই বলে ওটা ছিল দুর্ঘটনা । কিন্তু আমি জানি তুই আমার জন্য কষ্ট পেয়েই অমন ঘটিয়েছিলি । আমি তোর ঐদিনের ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া রক্ত মাখা শরীর মুখ কোনোকিছুই আজ ভুলিনি কুহু...শুধু ভুলে রয়েছি...কাজের মধ্যে ব্যস্ত রেখেছি নিজেকে...পারলে আমায় ক্ষমা করে দিস...কুহু…"

"আসছি আমি... আজকের পর আর দেখা হবেনা তোর সাথে আমার । তবে তোর প্রত্যেকটা মুহূর্তে আমি তোর পাশেই থাকবো। কথা দিয়েছিলাম...আমি কথা রাখবো …. "

আস্তে আস্তে ক্রমশঃ দূরে সরে যেতে থাকলো অবয়ব টা...একসময় কোথায় যেন মিলিয়ে গেল। ভেতরটা কেঁপে উঠলো অর্পণের। একটা তীব্র চাপা যন্ত্রণা যেন ফেটে গেল এই কয়েক মুহূর্তে । একবার চোখ বন্ধ করে নিজের মনে জোরে শ্বাস নিলো। চোখের কোণা দিয়ে জল নেমে এলো । নিজেকে সামলে নিয়ে এগিয়ে চললো বাড়ির পথে ।।

New Bengali love story- ফোনের ওপারে New Bengali love story- ফোনের ওপারে Reviewed by Bengali love status on April 19, 2020 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.